আমরা কি সত্যিই ঈশ্বরকে ভালোবাসি, নাকি শুধু তাঁর দান চাই?

ভূমিকা

মানুষের জীবনে এমন কিছু প্রশ্ন রয়েছে, যেগুলোর উত্তর এড়িয়ে যাওয়া সহজ হলেও, সেগুলোর মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত কঠিন। তেমনই একটি প্রশ্ন হলো—আমরা কি সত্যিই ঈশ্বরকে ভালোবাসি, নাকি কেবল তাঁর কাছ থেকে কিছু পেতে চাই।

অধিকাংশ মানুষ জীবনের সাফল্যকে অর্থ, সম্মান, আরাম-আয়েশ, ইন্দ্রিয়তৃপ্তি এবং পার্থিব অর্জনের মাধ্যমে পরিমাপ করে। কিন্তু কখনো কি আমরা নিজেদের কাছে প্রশ্ন করেছি—এই অর্জনগুলো কি স্থায়ী? এগুলো কি মানুষের অন্তরের গভীর শূন্যতাকে পূরণ করতে পারে?

শাস্ত্র বারবার আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের জন্ম কেবল ভোগের জন্য নয়, আত্মস্বরূপকে উপলব্ধি করা এবং পরম সত্যের সন্ধান করাও মানবজীবনের একটি মৌলিক উদ্দেশ্য। অথচ ব্যস্ততার অজুহাতে আমরা প্রায়ই সেই প্রশ্নগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাই, যেগুলোর উত্তরই আমাদের জীবনের প্রকৃত দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

আজকের এই আলোচনায় আমরা সেই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হব। কেন মানুষ ঈশ্বরকে ভুলে যায়? কেন ক্ষণস্থায়ী সুখের পেছনে ছুটতে ছুটতে চিরস্থায়ী শান্তিকে হারিয়ে ফেলে? এবং কেন ভক্তির পথ আমাদের কাছে কঠিন বলে মনে হয়—এসব বিষয় শাস্ত্রের আলোকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হবে।

মানুষের চাওয়া-পাওয়ার তালিকা, যুগে যুগে প্রায় একই রকম থেকেছে। কেউ সম্পদ চায়, কেউ খ্যাতি, কেউ ক্ষমতা, আবার কেউ ইন্দ্রিয়সুখকে জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন বলে মনে করে। বাহ্যিক রূপ ভিন্ন হলেও অধিকাংশ মানুষের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু একটিই—নিজেকে সুখী করা।

কিন্তু এই সুখ কি স্থায়ী?

একজন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে নিজের দেহের পরিবর্তে একটি উজ্জ্বল আত্মার প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। চারপাশে পার্থিব কোলাহল থাকলেও আয়নার ভেতরে শান্তি ও আধ্যাত্মিক আলোর পরিবেশ ফুটে উঠেছে।

শ্রীমদ্ভাগবতে মানুষের জাগতিক জীবনের একটি গভীর বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মানুষের দিন-রাতের অধিকাংশ সময় কেটে যায় নিদ্রা, সংসার, জীবিকা এবং ভোগের চিন্তায়। জীবনযাত্রার এই অন্তহীন ব্যস্ততার মধ্যে, খুব কম মানুষই নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে।

যেমন:

  •  আমি কে?
  •  কেন এই পৃথিবীতে এসেছি?
  •  মৃত্যুর পরে আমার গন্তব্য কোথায়?
  •  আমার সঙ্গে পরমেশ্বরের সম্পর্ক কী?

এই প্রশ্নগুলোই প্রকৃত আত্মজিজ্ঞাসার সূচনা। কিন্তু ভোগকেন্দ্রিক জীবনে মানুষ সাধারণত এসব প্রশ্ন এড়িয়ে চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ বহুবার ব্যাখ্যা করেছেন যে, জড়জগতের মোহে আবদ্ধ জীবের প্রধান সমস্যা হলো—সে নিজের প্রকৃত পরিচয় ভুলে যায়। তখন তার সমস্ত প্রচেষ্টা, সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে ক্ষণস্থায়ী সুখ অর্জনের মধ্যে।

এই অবস্থার সঙ্গে একটি পতঙ্গের তুলনা করা যায়। আগুনের আলো তাকে আকর্ষণ করে, কিন্তু সেই আকর্ষণই শেষ পর্যন্ত তার বিনাশের কারণ হয়। তেমনি জাগতিক ভোগও প্রথমে আনন্দের প্রতিশ্রুতি দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা দুঃখ, অশান্তি ও অপূর্ণতার জন্ম দেয়।

অর্থ, যশ, বিলাসিতা কিংবা ক্ষমতা—এসবের প্রয়োজন সম্পূর্ণ অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু যখন এগুলোকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানানো হয়, তখন মানুষ ধীরে ধীরে আত্মার প্রকৃত প্রয়োজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাহ্যিক সাফল্য বাড়লেও অন্তরের শূন্যতা থেকে যায়।

সেখান থেকেই শুরু হয় প্রকৃত প্রশ্ন—যদি এই পৃথিবীর কোনো অর্জন স্থায়ী না হয়, তবে মানুষের প্রকৃত শান্তি কোথায়?

মানুষের জীবনের একটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো—তার সুখের সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। যে জিনিস একসময় জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ বলে মনে হয়, কিছুদিন পর সেটিই আর আকর্ষণীয় থাকে না।

একটি নবজাতক শিশুর সমগ্র পৃথিবী তার মায়ের কোলে সীমাবদ্ধ। সেখানেই সে নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও আনন্দ খুঁজে পায়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সুখের কেন্দ্র পরিবর্তিত হতে থাকে। কৈশোরে বন্ধু, খেলাধুলা ও নতুন অভিজ্ঞতা তাকে আকর্ষণ করে। যৌবনে সেই আকর্ষণের স্থান দখল করে কর্মজীবন, সম্পর্ক, পরিবার, প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক স্বীকৃতি। পরবর্তী সময়ে সন্তানের সাফল্য, নাতি-নাতনির সান্নিধ্য কিংবা সংসারের নানা বিষয়েই মানুষ সুখ খুঁজতে শুরু করে।

অর্থাৎ সুখের বস্তু বদলায়, কিন্তু সুখের অনুসন্ধান কখনো শেষ হয় না।

এই পরিবর্তনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে—আমরা যে সুখের পেছনে ছুটছি, তা স্বভাবতই ক্ষণস্থায়ী। কারণ জড়জগতের প্রতিটি বস্তু পরিবর্তনশীল। ধন-সম্পদ, সৌন্দর্য, যৌবন, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক মর্যাদা—সবই সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।

এই কারণেই শাস্ত্র জাগতিক ভোগকে স্থায়ী পরিতৃপ্তির উৎস হিসেবে বিবেচনা করে না। ভগবদ্গীতায় (৫.২২) শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে, ইন্দ্রিয় ও বিষয়ের সংস্পর্শ থেকে যে সুখের অনুভূতি জন্মায়, তা শেষ পর্যন্ত দুঃখেরই কারণ হয়। কারণ, তার একটি শুরু আছে, আবার একটি শেষও আছে।

বাস্তব জীবনেও আমরা একই বিষয় লক্ষ্য করি। বহুদিন ধরে যে জিনিসটি পাওয়ার জন্য মানুষ পরিশ্রম করে, সেটি অর্জনের পর কিছুদিন আনন্দ পেলেও ধীরে ধীরে সেই আনন্দ স্বাভাবিক হয়ে যায়। তখন মন আবার নতুন কিছু চায়। এই অন্তহীন চাওয়াই মানুষকে এক অদৃশ্য অশান্তির মধ্যে আটকে রাখে।

এ কারণেই মহাজনরা বলেছেন—সংসারের ভোগে স্থায়ী সুখ নেই। কারণ জড়বস্তুর স্বভাবই হলো পরিবর্তন। পরিবর্তনশীল কোনো কিছুর ওপর স্থায়ী শান্তি নির্মাণ করা যায় না।

তাই আসল প্রশ্ন হলো—যে সুখ চিরস্থায়ী, যা কখনো হারিয়ে যায় না, সেই সুখ কোথায় পাওয়া যায়?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই শাস্ত্র মানুষকে ভক্তির পথে আহ্বান জানায়। কারণ আত্মা যেমন চিরন্তন, তেমনি তার প্রকৃত আনন্দের উৎসও চিরন্তন। সেই উৎসের নাম পরমেশ্বর।

যখন মানুষ কেবল তাঁর দান নয়, তাঁকেই ভালোবাসতে শেখে, তখনই তার জীবনে ভক্তির প্রকৃত সূচনা ঘটে। আর সেই মুহূর্ত থেকেই জাগতিক প্রাপ্তির হিসাব ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে শুরু করে এবং অন্তরে জন্ম নেয় এক ভিন্ন ধরনের শান্তি, যা বাহ্যিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়।

একটি বিষয় গভীরভাবে লক্ষ করুন—অধিকাংশ মানুষ ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে শুনেছে, ধর্মগ্রন্থের কথা জানে, ভক্তির মাহাত্ম্যও অস্বীকার করে না। তবুও কেন এত মানুষ ঈশ্বরস্মরণকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু করতে পারে না?

শাস্ত্রের ভাষায় এর মূল কারণ হলো আসক্তি। মানুষের মন দীর্ঘদিন ধরে জাগতিক ভোগ, পরিচয়, সাফল্য এবং অহংকারের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে পড়ে যে, সে চিরস্থায়ী সত্যের চেয়ে ক্ষণস্থায়ী অর্জনকেই বেশি মূল্য দিতে শুরু করে।

একজন মানুষ ঈশ্বরের আলোর পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে জাগতিক ভোগ, সম্পদ, ক্ষমতা ও বিলাসিতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি আধ্যাত্মিক জীবন ও জাগতিক আসক্তির প্রতীকী চিত্র।

ভক্তি মানে কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন নয়। প্রকৃত ভক্তি হলো, নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করে পরমেশ্বরের আশ্রয় গ্রহণ করা। এটি দুর্বলতার পরিচয় নয়, বরং আত্মসচেতনতার প্রকাশ।

অনেকেই মনে করেন, ভক্তির পথে চললে হয়তো জীবনের আনন্দ কমে যাবে। কিন্তু শাস্ত্র ভিন্ন কথা বলে। ভক্তি মানুষকে জাগতিক দায়িত্ব থেকে পালাতে শেখায় না, বরং দায়িত্বকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পালন করতে শেখায়। কর্ম থাকে, সংসার থাকে, সম্পর্কও থাকে—কিন্তু সেগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ঈশ্বরস্মরণ।

শ্রীকৃষ্ণ ভগবদ্গীতার (১৮.৬৬) একটি বহুল পরিচিত শ্লোকে বলেন—

“সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ।”

অর্থাৎ, সকল প্রকার আশ্রয় ত্যাগ করে একমাত্র আমার শরণ গ্রহণ করো। আমি তোমাকে সকল পাপ থেকে মুক্ত করব, ভয় বা শোক করো না।

এই আহ্বানের বিশেষত্ব এখানেই যে, এখানে ভগবান মানুষের অতীত ভুলের চেয়ে তার বর্তমান প্রত্যাবর্তনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মানুষকে হতাশ করেন না, বরং ফিরে আসার পথ খুলে দেন।

কিন্তু মানুষ প্রায়ই মনে করে—আরও কিছু সম্পদ, আরও কিছু সাফল্য কিংবা আরও কিছু ভোগ অর্জন করলেই হয়তো শান্তি আসবে। বাস্তবে সেই “আরও”-এর শেষ নেই। একটি ইচ্ছা পূরণ হলে আরেকটি জন্ম নেয়। ফলে মন কখনো তৃপ্ত হয় না।

এই কারণেই আধ্যাত্মিক সাধকরা বলেন, মানুষের প্রকৃত অভাব অর্থের নয়, ঈশ্বরস্মরণের। কারণ, যে হৃদয় পরমেশ্বর থেকে বিচ্ছিন্ন, তাকে কোনো জাগতিক প্রাপ্তিই দীর্ঘস্থায়ী তৃপ্তি দিতে পারে না।

তাই প্রশ্নটি আজও আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে—আমরা কি কেবল ঈশ্বরের আশীর্বাদ চাই, নাকি সত্যিই তাঁর সান্নিধ্য কামনা করি? এই প্রশ্নের উত্তরই অনেকাংশে নির্ধারণ করে দেয় আমাদের জীবনের পথ ও পরিণতি।

মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য কী? অনেকেই বলবেন—সম্পদ, সাফল্য, সুস্বাস্থ্য কিংবা সম্মান। কিন্তু শাস্ত্র ভিন্ন এক সত্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সৌভাগ্য হলো—সে এখনো ঈশ্বরকে স্মরণ করার, তাঁর দিকে ফিরে যাওয়ার এবং নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে।

একজন মানুষ হাঁটু গেড়ে মাথা নত করে ঈশ্বরের আলোর দিকে প্রার্থনা করছেন। আকাশ থেকে সোনালি আলো নেমে এসেছে এবং সামনে শান্ত, আলোকিত পথ দেখা যাচ্ছে।

পরমেশ্বর কখনো মানুষের কাছ থেকে ধন-সম্পদ, বিলাসিতা কিংবা বাহ্যিক প্রদর্শন চান না। তিনি মানুষের হৃদয় চান। ভগবদ্গীতার (৯.২৬) একটি সুপরিচিত শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেন—

“পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং যো মে ভক্ত্যা প্রযচ্ছতি। তদহং ভক্ত্যুপহৃতমশ্নামি প্রয়তাত্মনঃ।।”

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি ভক্তিভরে আমাকে একটি পাতা, একটি ফুল, একটি ফল কিংবা সামান্য জলও অর্পণ করে, আমি সেই আন্তরিক নিবেদন সানন্দে গ্রহণ করি।

এই শ্লোক আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ভগবানের কাছে বাহ্যিক উপকরণের চেয়ে, আন্তরিক ভক্তির মূল্য অনেক বেশি। তাই ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসার জন্য বিশেষ সম্পদ, সামাজিক অবস্থান বা অসাধারণ যোগ্যতার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন কেবল একটি আন্তরিক হৃদয়।

জীবনের একসময় মানুষ উপলব্ধি করে, ধন-সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা খ্যাতি সবই একদিন পিছনে থেকে যাবে। কিন্তু মানুষের কর্ম, চরিত্র, ঈশ্বরস্মরণ এবং ভক্তির সাধনাই তার প্রকৃত সম্পদ হয়ে থাকবে।

তাই আজ নিজের কাছে একটি প্রশ্ন রাখুন—আমি প্রতিদিন কত সময় ব্যয় করি সেই বিষয়গুলোর জন্য, যেগুলো একদিন এই পৃথিবীতেই থেকে যাবে? আর কত সময় দিই সেই সম্পর্কটির জন্য, যা জন্ম-মৃত্যুর সীমা অতিক্রম করে চিরন্তন?

এই আত্মজিজ্ঞাসার উত্তরই মানুষকে ধীরে ধীরে অন্তরের পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়। ভক্তির সূচনা হয় কোনো বড় আয়োজন দিয়ে নয়, বরং একটি সত্য উপলব্ধি দিয়ে—আমি একা নই, আমার জীবনের একজন চিরন্তন আশ্রয় আছেন।

হয়তো আজই সেই শুরু হতে পারে। কয়েক মুহূর্ত নির্জনে বসে নিজের হৃদয়ের কথা শুনুন। একবার আন্তরিকভাবে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করুন। তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন এবং জীবনের সঠিক পথ চলার শক্তি প্রার্থনা করুন। ছোট এই পদক্ষেপই অনেক সময় গভীর আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের সূচনা হয়ে ওঠে।

মানুষের জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল অর্জন করা নয়, উপলব্ধি করাও। আমরা যদি শুধু ঈশ্বরের দানকেই ভালোবাসি, তবে একদিন সেই দানের পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের সুখও বদলে যাবে। কিন্তু যদি আমরা দাতাকেই ভালোবাসতে শিখি, তাহলে এমন এক শান্তির সন্ধান পাব, যা জাগতিক পরিবর্তনের সঙ্গে বিলীন হয় না।

অতএব প্রশ্নটি আবারও আমাদের সামনে ফিরে আসে—আমরা কি সত্যিই ঈশ্বরকে ভালোবাসি, নাকি কেবল তাঁর কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকেই ভালোবাসি?

এই প্রশ্নের উত্তর অন্য কেউ দেবে না। প্রত্যেক মানুষকে নিজের হৃদয়ের ভেতরেই সেই উত্তর খুঁজে নিতে হবে। আর সেই অনুসন্ধানের মধ্য দিয়েই শুরু হতে পারে ঈশ্বরের দিকে ফিরে যাওয়ার প্রকৃত যাত্রা।

Leave a Comment