করুণাময় ঈশ্বর, তবুও জীবনে দুঃখ কেন?

আজকের আলোচনার বিষয়টা হলো—করুণাময় ঈশ্বর, ভগবান করুনার সাগর, তবুও জীবনে এত দুঃখ কেন?

ভাই ও বোনেরা…যখন মানুষের হৃদয় ভেঙে যায়…যখন সংসারের দুঃখ বুক ছিঁড়ে ফেলে…তখন একটাই প্রশ্ন দাঁড়ায়—হে ভগবান, তুমি করুণাময়, তবে আমাকেই এত দুঃখ দিলে কেন?কিন্তু সত্যিটা খুব তীক্ষ্ণ, এবং খুব নির্মম—আর আজ আমি সেই সত্যটাই বলব।মানুষ শুনলে শিহরিত হবে, বিবেক জেগে উঠবে।

প্রথমে একটা কথা শুনে রাখুন।করুণাময় ঈশ্বর কখনো দুঃখ দেন না, আমরায় দুঃখকে টেনে আনি!ভগবান শ্রেষ্ঠ করুণাময়।তিনি দুঃখ সৃষ্টি করেন না—আমরা নিজেদের কুকর্ম দিয়ে দুঃখ সৃষ্টি করি।শাস্ত্রে পরিষ্কার ভাবে বলা আছে—

যজ্ঞার্থাৎ কর্মণোऽন্যত্র লোকোऽয়ং কর্মবন্দনঃ।অর্থাৎ,ঈশ্বরকেন্দ্রিক না হলে প্রত্যেক কর্মই দুঃখের বন্ধন সৃষ্টি করে।

কিন্তু আমরা কী করি?

আমরা ঈশ্বরকে ভুলে যাই—ভুলে যাই ধর্ম, ভুলে যাই নিয়ম, ভুলে যাই ন্যায়…তারপরও প্রশ্ন করি—হে ঈশ্বর, আমায় দুঃখ দিলে কেন?কিন্তু না! দুঃখ ভগবান দেননি…দুঃখ তো আমাদের নিজের হাতে রাঁধা খাবার!

এই পৃথিবী হল জেলখানা স্বরূপ!শাস্ত্রে পৃথিবীকে বোঝানো হয়েছে—দুঃখালয়ম্ অশাশ্বতাম্ — অর্থাৎ পৃথিবী হলো দুঃখের বাড়ি।

পৃথিবী কেন দুঃখময় জগৎ – কর্মফল, দুঃখ ও ঈশ্বরের দিকে মুক্তির প্রতীকী চিত্র

গীতায় স্বয়ং কৃষ্ণ বলছেন-

মাম্ উপেত্য পুনর্জন্ম দুঃখালয়মশাশ্বতাম্ নাপ্নুবন্তি।

অর্থাৎ, কৃষ্ণ বলছেন, যে আমার কাছে ফিরে আসে, সে আর এই দুঃখের জগতে ফিরে আসে না।

আচ্ছা,এই পৃথিবী কেন দুঃখময়?কারণ—এটা ঈশ্বরের রাজ্য নয়—এটা কারাগার।জেলখানায় কি মানুষ সুখ করতে যায়?

না!

জেলখানার নিয়মই হলো—শাস্তি, কষ্ট, নিয়ন্ত্রণ, বেদনা।

এক রাজা তাঁর রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য,রাজদ্রোহী প্রজাকে জেলে পাঠান।তাহলে কি রাজা নির্মম?না!এটা জেলখানা রাজার দোষ নয়—মানুষ যে ভুল বা অন্যায় করে, তার দায় তাকে নিজেকেই বহন করতে হয়।যেমন,কেউ চুরি করলে এবং পুলিশ তাকে ধরলে , জেলে যেতে হয়।এটাই তার অপরাধের ফল।কেউ মানুষ খুন করলে,আদালত তাকে কারাদণ্ড দেয়।এটাও অপরাধের ফল।ঠিক সেইভাবে—এই জগতে দুঃখ কষ্ট পাওয়া ভগবানের দোষ নয়,এটা আমাদের কৃষ্ণবিমুখতার ফল।

কৃষ্ণবিমুখ হওয়ার ফলেই আমরা দুঃখময় জগতে পতিত হয়েছি!এজন্য শাস্ত্রে বলছেন,

কৃষ্ণ ভুলি যেই জীব অনাদির বহির মুখ,এত এম মায়া তারে দেয় সংসারের দুঃখ,

যখন আত্মা ঈশ্বরকে ভুলে যায়—যখন আত্মা নিজের ইচ্ছায়, নিজের ভোগে, নিজের মায়ায় মজে—তখন তাকে পাঠানো হয়—এই “প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে”, এই জেলখানায়, এই পৃথিবীতে।

শাস্ত্রে বলা হয়—“ভয়ং দোয়িত্য অভিনিবেশতস্য ঈশাদপেতস্য বিপর্যয়ো স্মৃতি।”অর্থাৎ, ঈশ্বর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে জীব দুঃখ, ভয় ও বিপর্যয় পায়।যেই মুহূর্তে আমরা কৃষ্ণকে ভুললাম—সেই মুহূর্তে শুরু হলো আমাদের জীবনে—দুঃখ,বেদনা,মৃত্যু,রোগ,ভয়,এবং অশান্তি!

কারণ কৃষ্ণবিমুখতা মানেই—আলো থেকে দূরে সরে যাওয়া।আলো থেকে দূরে সরে গেলে অন্ধকার আসবেই।

কর্মফল থেকে এই পর্যন্ত কেউ রেহাই পায়নি।সবাইকে কর্মের ফল ভোগ করতেই হবে, কেউ পালাতে পারবে না।আমরা চিৎকার করে বলি—ঈশ্বর আমাকে কেন বাঁচালেন না?কিন্তু শাস্ত্রে নিয়ম স্পষ্ট বলে দিয়েছেন—

“কর্মো হ্যপি হ্যপি ভিদ্‌ধব্যম্‌।”

অর্থাৎ,কর্মের ফল অনিবার্য।যে যেমন বপন করে—সে তেমনই ফসল পায়।এখানে কেউ কাউকে,বাঁচাতে পারে না।পরিবার পারে না,টাকা পারে না,ডাক্তার পারে না,এবং বন্ধুও পারে না।শুধু একজনই পারেন,তিনি হলেন ভগবান!কিন্তু তখনই,যখন আমরা যোগ্য হই।

কারাগারের আসামি বন্দীকে যেমনসরকার একদিন মুক্তি দেয়—ঠিক তেমনই আমাদের দুঃখের মেয়াদওকর্ম অনুযায়ী শেষ হয়।আমরা ঘূর্ণি পাকের মত ঘুরছি,পুনঃপুন জন্ম-মৃত্যু: পুনরায় দুঃখের চক্র।যদি আমরা বুদ্ধিমান না হই—যদি আবারও আগের ভুল করি—তাহলে কী হবে?পুনর্জন্ম!নতুন দেহ!নতুন কষ্ট!নতুন কারাগার!

গীতা শাস্ত্র বলে—

“আসুরীঙ্জননীং যোনিমাপন্না মূঢ়যন জন্মনি জন্মনি।”

অর্থাৎ, অজ্ঞানীরা বারবার দুঃখময় জন্মে পড়ে।অর্থাৎ—বুদ্ধিমান ব্যক্তি বুঝে নেয়—এ দুঃখের পথ আর নয়!

ভক্তির মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি এবং ঈশ্বরের ধামে যাওয়ার প্রতীকী চিত্র

মুক্তির পথ একটাই, আর সেটি কঠিনও নয়!এ জগৎ জেলখানার—এর একটাই দরজা আছে।সেই দরজার নাম—

ভক্তি।জ্ঞান নয়।তপস্যা নয়।যজ্ঞ নয়।বড় বড় কথা নয়।কেবল—ভগবানের চরণের দাস।কৃষ্ণ গীতায় বলছেন,

“সর্বধর্মান্‌ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।”

অর্থাৎ,সব ধর্ম-কর্ম ত্যাগ করে কেবল আমার শরণ নিতে হবে।এই “শরণ”—এটাই মুক্তির দরজা।কোনো মানুষকে শরণ নেওয়া নয়।কোনো গুরুকে ঈশ্বর ভেবে নয়।কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পিছনে নয়।সোজা কৃষ্ণের কাছে সমর্পণ।সোজা ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণ।

আমরা কেন দুঃখ পাই?কারণ আমরা ভুল করেছি,কারণ আমরা ঈশ্বরকে ভুলেছি,আমরা জগৎকে নিজের বাড়ি ভেবেছি,আমরা ভোগ করতে চেয়েছিকারণ আমরা কোনো নিয়ম মানিনি!এটা ভগবানের দোষ নয়—এটা আমাদের ভুলের হিসাব।

ভক্তি ও শরণাগতির মাধ্যমে দুঃখ, মায়া ও জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি লাভের প্রতীকী চিত্র

তাহলে কীভাবে দুঃখ শেষ হবে?গীতায় বলা হয়েছে,“দৈবী হ্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত্যয়া।”

ভগবান বলছেন—“এই পৃথিবী পরীক্ষা—তুমি এখানে আটকে থাকবে কি আমার কাছে ফিরবে এটা দেখার জায়গা।”মানুষ দুঃখে পড়ে কারণ—মায়া তাকে শেখাতে চায়“তুমি এই জগতের নও।”যেই মুহূর্তে মানুষ কৃষ্ণের প্রতি আত্মসমর্পণ করে,মায়া আর তাকে ধরতে পারে না।কিন্তু…

“মামেব যে প্রপদ্যন্তে, মায়ামেতাং তরন্তিতে।”

কৃষ্ণ বলছেন,যে আমার কাছে আসে,সে মায়াকে পার করে ফেলে।

অর্থাৎ—মুক্তি আছে।মুক্তির পথ আছে।মুক্তি খুব কাছে।কিন্তু দরজা খুলবে তখনই,যখন আমরা কৃষ্ণের পথে ফিরব।এই দুঃখময় জগৎ—জেলখানা।ভগবান নির্মম নন—আমরা অপরাধী।কিন্তু সুখের খবর হলো—আমাদের শাস্তির মেয়াদ চিরদিন নয়।চাইলে আমরা এখনই মুক্ত হতে পারি।যেদিন আমরা কৃষ্ণকে জীবনের কেন্দ্র বানাব—সেদিন এই জীবনের দুঃখই, সংসারের কষ্ট—এই জন্ম-মৃত্যু চক্র—সব ছিঁড়ে যাবে।কারণ—পরম করুণাময় ভগবান সর্বদা অপেক্ষা করছেন—“আমার সন্তান কবে আমার কাছে ফিরে আসবে!

শোনো…আজ যে কথা বলব—এই কথা তোমার ঘুম ভেঙে দেবে।তোমার হৃদয়ের অহংকারের দেয়াল ভেঙে চুরমার করে দেবে।তোমাকে ভিতর থেকে ঝাঁকিয়ে দেবে।কারণ আজ আমরা সেই প্রশ্ন ছুঁয়ে যাচ্ছি—যা দেবতাকেও কাঁপায়, অসুরকেও কাঁপায়,যা যুগযুগ ধরে মানবজাতির বুকে আগুন জ্বালিয়েছে!“কৃষ্ণ যদি করুণাময় হন, তবে তিনি মন্দ সৃষ্টি করলেন কেন?”যদি সত্যটা শুনতে সাহস থাকে—তাহলে এই লেখাগুলো আপনার আত্মাকে ছিঁড়ে উল্টে দেবে।

একটা কথা শুনে রাখুন—বিপরীত ছাড়া মহাবিশ্ব চলে না—এটাই কৃষ্ণের আইন !এই মহাবিশ্ব কিসের উপর দাঁড়িয়ে আছে জানেন?দেয়ালে?পাথরে?মাটিতে?না!মহাবিশ্ব দাঁড়িয়ে আছে,বিপরীত শক্তির সংঘর্ষে।

যেখানে আলো আছে—সেখানে অন্ধকার অবশ্যই থাকবে।যেখানে ভালো আছে—সেখানে মন্দ অবশ্যই থাকবে।

যেখানে ভগবান আছেন—সেখানে মায়াও আছে।এটা ভগবানের নিষ্ঠুরতা না—এটা তাঁর,মহা-পরিকল্পনা।

ভালো যদি সবদিকে ছড়িয়ে যেত—আপনি কি ভালোকে চিনতেন?না!আজ আপনি আলো খুঁজছেন—কারণ অন্ধকার আপনাকে কামড়ে ধরেছে।আজ আপনি শান্তি খুঁজছেন—কারণ অশান্তি আপনাকে ছিন্নভিন্ন করেছে।ভালোকে জানতে হলে মন্দকে চেনা বাধ্যতামূলক।এইটাই কৃষ্ণের নিয়ম—অস্তিত্ব বুঝতে হলে বিপরীত চাই!

আলো ও অন্ধকার, ভালো ও মন্দের ভারসাম্য এবং মানুষের চরিত্র পরীক্ষার প্রতীকী চিত্র

ভাবুন তো—যদি চিরদিন সূর্য থাকত,কোনো রাত না থাকত।মানুষ কি কখনো বলত—“হে সূর্যদেব, তোমার আলো কৃপাময়”?না!মানুষ আলোর মূল্য বুঝছে,তার মূল কারণ হলো, রাতের অন্ধকারতার বুকে দংশন করেছে।

মনে রাখুন—যত গভীর রাত, তত বেশি সূর্যের অপেক্ষা।অন্ধকার না থাকলে,আলো জন্মায় না।আলোর জয় ঘোষণা হয় না!তাই কৃষ্ণ রাত সৃষ্টি করলেন,যাতে মানুষ দিনে সূর্যকে ভগবানের মতো সম্মান দেয়।

তিনি মন্দ থাকতে দিলেন,যাতে মানুষ ভালোকে বুকে তুলে নেয়।যেখানে অন্ধকার নেই—সেখানে সূর্যের মর্যাদা মারা যায়।যেখানে মন্দ নেই—সেখানে ভগবানের গৌরব মানুষ অনুভবই করতে পারে না।কৃষ্ণ মন্দ সৃষ্টি করেননি…তিনি অবসরের সৃষ্টি করেছেন।

মন্দ হলো আয়না।যাতে মানুষ নিজের ভিতরের পশুটা দেখতে পায়।মন্দ হলো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র।যেখানে মানুষ নিজের চরিত্র প্রকাশ করে।মন্দ হলো স্কেল—যেখানে ভালো মানুষের উচ্চতা মাপা হয়।আপনি যদি মন্দকে না চিনতেন—আপনি কীভাবে প্রমাণ করতেন আপনি ভালো?আজ মানবজন্মে আমাদের চরিত্র প্রমাণ করতে হয়,তাই মন্দ দরকার হয়েছে।

যেমন আগুন প্রমাণ করেকোনটা সোনা, কোনটা মাটি—তেমন মন্দ প্রমাণ করেআপনার হৃদয় সোনা, নাকি মাটি!

রাষ্ট্রে জেলখানা তৈরি করেছেকেন?সমস্ত নাগরিককে কয়েদি বানাতে?না!জেলখানা তৈরি করা হয়,কয়েকজন অপরাধীকে আটকানোর জন্য।এটার মানে কি রাজা খারাপ?না!বরং রাজা ভালো—কারণ তিনি ভালো মানুষদের রক্ষা করছেন।

এখন নজর দিন—শাস্ত্র কী বলে,এই পৃথিবী দুঃখময় জেলখানা।কার জন্য?সবার জন্য?না!যারা কৃষ্ণবিমুখ হয়ে গেছে,যারা ভুল করেছে,যাদের সংশোধন দরকারতাদের জন্য।

আয়রন-হার্ড সত্য এটা—এই জগৎ আমাদের সিদ্ধান্তের ফল।এটি ভগবানের নিষ্ঠুরতা নয়।আপনি কী জানেন, সবচেয়ে নির্মম সত্য কী?ভগবান আপনাকে মন্দের কাছে ফেলে দেন ধ্বংস হবার জন্য নয়—জাগার জন্য।

যখন আপনি ভুল পথে যাবেন,মন্দ আপনাকে জ্বালাবে,পোড়াবে,গুঁড়িয়ে দেবে,এবং দম বন্ধ করে দেবে…আর সেই দমবন্ধ যন্ত্রণা আপনাকে,ভগবানের দিকে দৌড়াতে বাধ্য করবে।

ভগবান আপনার কষ্ট দেখেন।কিন্তু তিনি থামান না—কারণ সেই কষ্টই আপনাকে আলোর দিকে ঠেলে দেয়।

যদি মন্দ না থাকতো…তাহলে আপনি কৃষ্ণের কাছে ফিরতেন না।যদি অন্ধকার না থাকতো…আপনি আলোকে কখনো খুঁজতেন না।ভগবান আপনাকে দিলেন স্বাধীনতা।এই স্বাধীনতা মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তিএবং সবচেয়ে বড় বিপদ।

স্বাধীনতা মানে কী?আপনি ভালোও করতে পারেন,আবার খারাপও করতে পারেন।যদি মানুষ ভুল করে—তার ফল ভোগ করতেই হবে।ভগবান শুধু চুপচাপ তাকিয়ে থাকেন—“এ জীবটা কি শিখল?”“এ কি ফিরে আসবে?”“এ কি বুঝল?”ভগবান অপেক্ষায় থাকেন কোন দিন আপনি তার দিকে ফিরে চাইবেন!

মন্দ তখনই জন্ম নেয়,যখন জীব নিজের স্বাধীনতাকে ভুল পথে ব্যবহার করে।দোষ ভগবানের নয়—দোষ সিদ্ধান্তের।

মন্দ—পতনের জন্য নয়, উত্তরণের জন্য!এই সত্য আমাকে সবচেয়ে বেশি কাঁপিয়েছে—মন্দের উদ্দেশ্য আপনাকে ফেলে দেওয়া নয়।মন্দের উদ্দেশ্য আপনাকে তুলতে।

মন্দ হলো নিচের ধাপ—যাকে পা দিয়ে আপনি উপরে উঠবেন।মন্দ হলো অন্ধকার টানেল—যার শেষে আলো দাঁড়িয়ে আছে।মন্দ হলো কারাগার—যেখান থেকে মুক্তি পেয়েমানুষ নিজের ভুল বুঝে নেয়।

শ্রীকৃষ্ণ মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সত্য উপলব্ধি ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের পথ দেখাচ্ছেন—প্রতীকী চিত্র

মন্দ হলো শূন্যতা—যেখানে মানুষ খুঁজতে শুরু করে“আমি কোথায় ভুল করছি?”শ্রীকৃষ্ণ বললেন—আমি মন্দ সৃষ্টি করিনি, অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করেছি।কৃষ্ণের কণ্ঠে আপনি যদি সত্যটা শুনতে চান—এটাই শুনবেন:“আমি মন্দ সৃষ্টি করিনি।আমি তোমার জন্য অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করেছি।আমি চাই তুমি সত্যকে উপলব্ধি করো।অভিজ্ঞতা ছাড়া উপলব্ধি জন্মায় না।”

যে প্রেমের সুখ পায়,সে আগে বিষাদ চেখেছে।যে আলো খুঁজে বেড়ায়,সে অন্ধকারে হারিয়েছে।যে ভগবানের পায়ে পড়ে,সে আগে দুঃখে ভেঙেছে।মন্দকে ভয় পেতে নেই।মন্দকে ঘৃণা করতে নেই।মন্দকে এড়িয়ে চলতে নেই।

মন্দকে অতিক্রম করতে হয়!আগুনকে ভয় পেলে হবে না—আগুনকেই কাজে লাগাতে হয়।মন্দকে পায়ের নিচে রাখলে,আপনি ভালোতে উঠবেন।অন্ধকারকে পাশ কাটালে,আপনি আলোতে পৌঁছবেন।

আজ একটা কথা কান খুলে শুনে রাখুন—এটা আপনার জীবন পাল্টে দেবে।কৃষ্ণ মন্দ সৃষ্টি করেননি।তিনি মহাবিশ্বের মঞ্চ তৈরি করেছেন!যেখানে মন্দের সাথে লড়াই করেভালোকে গ্রহণ করে।আপনাকে কৃষ্ণস্বরূপ হতে হবে।

যতক্ষণ আপনি মন্দ থেকে পালাবেন—মন্দ আপনার পেছনে ছুটবে।যেদিন আপনি দাঁড়িয়ে বলবেন—আমি আলোকে বেছে নিলাম।সেদিন মন্দ আপনার সামনে,মরুভূমির ধুলোর মতো উড়ে যাবে।আপনি জন্মেছেন,মন্দের দাস হতে নয়,মন্দকে জয় করতে।এটাই কৃষ্ণের খেলা।এটাই মহাবিশ্বের নিয়ম।এটাই আপনার সত্যিকারের জন্মলক্ষ্য!

Leave a Comment