কর্ম বড় নাকি ভাগ্য বড়? গীতা অনুযায়ী চূড়ান্ত সত্য!

শোনো!আজ আমি নরম করে বলব না।আজ বুকে হাত দিয়ে সত্য শুনবে!

কারণ, দয়ার ভাষা অনেক শুনেছ—এবার শুনো আগুনের ভাষা!তোমার জীবন আজ যেমন অবস্থায় আছে—তার জন্য দায়ী একজনই “সেটা হলো তুমি নিজে!”অনেকে বলেন,আমার ব্যর্থতার পেছনে আমার ভাগ্য দায়ী, হয়তো ভাগ্যে ছিল না তাই আজকে আমি বিফল, এই কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা! ভাগ্য না, ভগবান না, মানুষও না।তোমার জীবন ডুবিয়েছে তোমার নিজের সিদ্ধান্ত।

এটা বিশ্বাস করতে গায়ে জ্বালা ধরবে—কিন্তু এটাই সত্য!তুমি আজ যেখানে—এটার লেখক তুমি নিজেই।ভাগ্য কোনদিন ভগবান লেখেন না!এই যে কথা তুমি বলো,সবই ভগবানের হাতে,এটা হলো কাপুরুষের ঢাল!যারা চেষ্টা করতে চায় না,যারা নিজেদের বদলাতে চায় না,যারা নিজের মুখ লুকানোর জন্য অজুহাত চায়—তারা বলে “হয়তো ভাগ্যে ছিল না”।

সত্য হলো—তোমার ভাগ্য ছিল খালি!তুমি কিছু লিখতেই চাওনি!তুমি বসে ছিলে।তাই ভাগ্যও বসে ছিল!

শ্রী কৃষ্ণ বলেন—তোমার কর্ম অনুযায়ী আমি ফল দিই।খেয়াল করো!তিনি বলেননি—“আমি তোমার ভাগ্য লিখি।”

তিনি বলেন—“তুমি যা করো—আমি শুধু তার ফল ফেরত দেই।”তুমি ভালো করলে,ভালো ফল ফিরে আসে।

তুমি মন্দ করলে,মন্দ ফল আসে।তুমি যদি কিছু না করে বসে থাকো,তবে তোমার ফল হবে শূন্য! 

ভাগ্যের নামে ভিক্ষা চাওয়ার মত জীবন চালালে—ফলও ভিক্ষুকের মতই আসবে।যে বলে “আমার ভাগ্য খারাপ”,

সে আসলে বলতে চায়—“আমি পরিশ্রম করতে চাই না”“আমি পরিবর্তন হতে চাই না”“আমি নিজেকে ঠিক করতে চাই না”আমি নিজের জীবনের দায় নিতে চাই না!একটি কথা মন দিয়ে শুনুন…ভাগ্য খারাপ হয় না,খারাপ হয় তোমার মানসিকতা।

কৃষ্ণ বলেন—“মানুষ নিজের শত্রু নিজেই, নিজের বন্ধুও নিজেই।”তুমি যদি নিজেকে সাহায্য না করো—ভাগ্যও তোমাকে সাহায্য করবে না।

ভাগ্য হলো—তোমার অতীতের জমা-পুঁজি কর্ম।কৃষ্ণ শুধু সেই কর্মের ফল স্বরূপ হিসাব দেন!আজ তুমি যা পাচ্ছো—সেটা তুমি উপার্জন করেছ।এটা কেউ চুরি করেনি।এটা কেউ তোমার মাথায় চাপিয়ে দেয়নি!তোমার জীবন আজ যেখানে আছে, অথবা তুমি যে অবস্থায় আছো—এটা ঈশ্বরের ইচ্ছা নয়,এটা তোমার নিজের তৈরি কারাগার।এবং দরজার চাবিটাও তোমার কাছেই আছে!কিন্তু তুমি দোষ দাও “ভাগ্য” নামক এক মুখহীন ভুতকে!

কৃষ্ণ বলেন—“তুমি যেদিকে এক পা বাড়াও, আমি সেদিকে হাজার পা এগিয়ে আসি।”তুমি শুধু শুরু করো।তুমি শুধু সৎকর্ম করো,তুমি শুধু সত্য পথে চলো।দেখবে,বাকি পুরো মহাবিশ্ব তোমাকে সাহায্য করতে শুরু করবে!

কারণ অতীতে তোমার সিদ্ধান্ত গরিব মানসিকতার ছিল।তুমি আজ কেন দুঃখে?কারণ তুমি সুখের যোগ্য কর্ম করোনি।তুমি আজ উন্নতি করতে পারছো না,কারণ তুমি নিজের ভেতরের পশুটাকে মারোনি।তুমি আজ ব্যর্থ,কারণ তুমি চেষ্টা করোনি।শুধু অজুহাত বানিয়েছো!আর তোমার মুখে সেই পুরনো দোহাই—“ভাগ্যে ছিল না…”এই কথাটা শুনলেই আগুন ওঠে!কারণ ভাগ্য না থাকলে—লিখতে হয়!তোমার হাতে কলম ছিল…তুমি সেটা ব্যবহার করোনি।আমরা সবাই একদিন গোলকধামে ছিলাম শ্রী কৃষ্ণের কাছে,গোলক ধাম থেকে আমরা পৃথিবীতে এলাম কেন? এই উত্তরটা একটু পরে দিচ্ছি, এখন শুনুন খুব মূল্যবান কথাগুলি।

একটা জায়গা আছে—যেখানে দুঃখ নেই…রোগ নেই…চিন্তা নেই…মরার ভয় নেই…সেখানে শুধু শান্তি…শুধু প্রেম…শুধু আনন্দ…এই জায়গাটার নাম হলো গোলক ধাম!যেখানে আমরা সবাই ছিলাম শ্রীকৃষ্ণের কাছে।তাহলে প্রশ্ন আসে — আমরা এত ভালো জায়গা ছেড়ে পৃথিবীতে এলাম কেন?মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল এখানেই—সবাই ভাবে এটা ভাগ্যের দোষ!ভাগ্য আমাদের পৃথিবীতে এনে ফেলেছে!কিন্তু না!এটা একদম ভুল।এটা ভাগ্যের কাজই না!সত্যটা হলো — দোষ আমাদের নিজের ইচ্ছার।শোনো খুব সহজ করে বলছি—গোলক ধামে সবাই কৃষ্ণের প্রেমে ডুবে থাকে।সেখানে “আমার” বলে কোনো কিছু নেই!সেখানে সবাই “কৃষ্ণের”।কিন্তু আমরা,কিছু কিছু জীব—মনে মনে একটা বাসনা করলাম:“আমিও কিছু উপভোগ করতে চাই।”“আমারও কিছু নিজের মতো চাই।”“আমি-ও একটু আলাদা হতে চাই।”এই ‘ভোগের আকাঙ্ক্ষা’ই হলো আসল দোষ।এই বাসনাটাই আমাদের গোলক ধাম থেকে সরিয়ে দিলো।কারণ গোলক ধাম ‘ভোগের জায়গা’ নয় — সেটা ‘ভক্তির জায়গা’।সেখানে সবাই সেবা করে।

সেখানে কেউ বলে না—“আমাকে দাও… আমাকে দাও…”সেখানে শুধু একটাই কথা—“কৃষ্ণ, তোমাকে কিভাবে খুশি করবো?”কিন্তু আমরা?আমরা বললাম:“আমিও কিছু চাই।”“আমিও সুখ নেবো।”“আমিও নিজের মতন চলবো।”এই ‘আমি-আমি-আমি’ তৈরিই হলো সমস্যার শুরু।

একটা কথা মনে রাখো—কৃষ্ণ কখনো জোর করেন না।তিনি কারো ইচ্ছা ভাঙেন না!তিনি কারো স্বাধীনতা কেড়ে নেন না।তুমি যদি বলো—“আমি ভোগ করতে চাই”—কৃষ্ণ উত্তর দেন:“ঠিক আছে, যাও।জড় জগতে গিয়ে ভোগ করে শিখে এসো।”এটাই পৃথিবী।এটাই জন্ম-মৃত্যুর দুনিয়া।এখানে সুখের সাথে দুঃখও আছে,আনন্দের সাথে কান্নাও আছে।এবং এটাই হলো স্বতন্ত্র ইচ্ছা—যা কৃষ্ণ প্রত্যেক জীবকে দিয়েছেন।

এখন আসল কথাটা শুনুন…আমরা পৃথিবীতে আছি ভাগ্যের কারণে নয়।আমরা পৃথিবীতে এসেছি নিজের ইচ্ছার কারণে!আমাদের ভোগের লোভই আমাদের গোলক ধাম থেকে নামিয়ে এনেছে।এবং যতদিন আমরা সেই ‘ভোগের বাসনা’ নিয়ে বাঁচব—ততদিন আমরা দুঃখ, কষ্ট, জন্ম-মৃত্যু থেকে বের হতে পারব না।ভুলটা ভাগ্যের নয়।ভুলটা আমাদের “ইচ্ছার!আমরা যেদিন স্বীকার করবো—“হ্যাঁ, আমার লোভ আমাকে এখানে এনেছে”—সেদিন থেকে উন্নতি শুরু হবে।

আর যতদিন দোষ দেবো ভাগ্যকে—ততদিন পুরোনো ভুলের চক্র থেকে বের হবো না।কৃষ্ণ তোমাকে ঠেলে ফেলেননি।তুমি নিজেই পড়েছিলে।তাই আজ পৃথিবীতে দৌড়াতে হচ্ছে করে, ভোগ করতে ইচ্ছে করে, কারন এই বাসনাটা তোমারই ছিল।কারণ দোষ তোমারই।

এবং সেই দোষ আজও চলছে!তুমি আজও ভোগ চাও।তুমি আজও অজুহাত চাও,তুমি আজও চেষ্টা করতে চাও না।আর দোষ দিচ্ছো ভাগ্যকে!আসলে,ভাগ্য নামের জিনিসটাই নেই।ভাগ্য হলো তোমার কর্মের গরম ছাই!

তুমি যা করো—কৃষ্ণ সেই ছাই তোমার হাতে তুলে দেন।ভালো কর্ম করলে, তুমি সুগন্ধ পাবে,খারাপ কর্ম করলে তুমি যন্ত্রণা পাবে।এবং তুমি যদি কিছু না করো , তাহলে শূন্যতা ছাড়া আর কিছুই পাবে না!

এটাই ভাগ্য,এটাই ন্যায়।এটাই ধর্ম!জীবন নষ্ট হলে দায়ী তুমি।জীবন বদলালে নায়কও তুমি!

 ভাগ্য লিখে দেয় না কেউ—ভাগ্য বানায় যোদ্ধারা।তুমি যোদ্ধা না কাপুরুষ?তোমার সিদ্ধান্ত বলবে।তোমার কর্ম বলবে।তোমার জীবনের অবস্থা বলবে!

তুমি আজ থেকেই বদলালে—তোমার ভবিষ্যৎ পুরো মহাবিশ্বও থামাতে পারবে না।তাই, তুমি ওঠো—ভাগ্য তোমার পায়ে মাথা নিচু করবে।তুমি দাঁড়াও—তোমার অতীত ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাবে।তুমি বদলাও—কৃষ্ণ তোমাকে সামনে এগিয়ে দেবেন!ভাগ্য ঈশ্বর লেখেন না।ঈশ্বর শুধু তোমার কর্মের ন্যায্য ফল দেন!

তুমি পরিবর্তন চাও?তোমার কর্ম বদলাও।

উন্নতি চাও?আজ থেকে সিদ্ধান্ত বদলাও।

নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চাও?আজ থেকেই শুরু করো—কারণ আগামীকাল বলে কিছু নেই।

জন্মের ভাগ্য তুমি ঠিক করোনি,কিন্তু আজ তুমি কী করবে—এটা পুরোপুরি তোমার হাতে।যে যত বেশি সৎ কাজ করে, পরিশ্রম করে, নিয়মানুবর্তিতা ধরে রাখে—তার ভবিষ্যৎ তত শক্তিশালী হয়।

যেমন,একটা বীজ তোমার হাতে দিল একজন (এটাই ভাগ্য)।

কিন্তু সেটা,জল দেবে,সার দেবে,এবং গাছ বানাবে কি না,এসব তোমার সিদ্ধান্ত।তুমি যেমন যত্ন নেবে, গাছটিও তেমন বড় হবে (এটাই তোমার তৈরি ভবিষ্যৎ)।ভাগ্য, যা তুমি বেছে নাওনি।এবং ভবিষ্যৎ ,যা তুমি নিজের হাতে প্রতিদিন বানাও!

এটাই সত্য।এটাই ধর্ম।এটাই কৃষ্ণের শিক্ষা!তোমার জীবন নষ্ট করলে—দায় কৃষ্ণের নয়।

 তোমার জীবন গড়লে—তুমিই করেছ!তোমার ভাগ্য তুমি নিজেই প্রতিদিন লিখে যাচ্ছ।

এটাকে ভাগ্য নয়—এটাকে বলে নিজের কৃতকর্মের ছায়া।

Leave a Comment